বাঙালির দৈনিক খাবারের তালিকায় শস্য এমনিতেই কম থাকে। তার উপর যেসব শস্য আমরা খাই, তা পুষ্টিমানের দিক থেকে অনেক পিছিয়ে। যেমন, বেশীরভাগ ক্ষেত্রেই আমরা সাদা চালের ভাত খাচ্ছি, যেখানে চালের পুষ্টি অনেকখানি হারিয়ে যায় প্রকিয়াজাতকরণের সময়। আবার যে রুটি আমরা খাই, তাতেও থাকে পরিশোধিত আটা-ময়দা যেখানে শস্যের গুণাগুণ হারিয়ে যায় আরও আগেই । আমরা যেই রুটি খাই তাতেও থাকে পরিশোধিত আটা-ময়দা, যেখানে শস্যের আসল গুণাগুণ হারিয়ে যায় আরও আগেই। এভাবে শরীরে শস্যের প্রয়োজনীয়তা কিন্তু থেকেই যাচ্ছে। আসুন জেনে নেই শস্যদানা কীভাবে আমাদের শরীরের উপকার করে।
হোল গ্রেইন/ গোটা শস্য আসলে কি?
শস্য দানার পুরোটা অংশেই থাকে আঁশ এবং নানা ধরণের ভিটামিন, যা শরীরের জন্য অনেক উপকারী। কিন্তু যখন তা পরিশোধন করা হয়, তখন এর পুষ্টিগুণ অনেকটাই কমে যায়। আমরা পরিশোধিত আটা-ময়দা দিয়ে তৈরি যে খাবার খাচ্ছি, তাতে হোল গ্রেইনের পুষ্টি পাওয়া যায় না। এক্ষেত্রে লাল আটার রুটি, লাল চালের ভাত কিংবা প্যাকেটের গায়ে‘হোল গ্রেইন’ লেখা খাবার কিনলে শস্যের সম্পূর্ণ পুষ্টি পাওয়া সম্ভব।
হোল গ্রেইনের উপকারী দিকগুলো
শুধু যে আঁশে ভরপুর তা নয়, শস্যদানায় থাকে নানা ধরণের ভিটামিন এবং দেহের জন্য উপকারী খনিজ যেমন ফসফরাস, পটাশিয়াম, লৌহ, তামা, প্রোটিন, ভিটামিন ই এবং বি-এর মত অনেক কিছু।
২০১৬ সালে হাভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে ৭৮ হাজার লোকের উপর করা একটি গবেষণায় দেখা গেছে যারা নিয়মিত হোল গ্রেইন খাবার খান তাদের অকাল মৃত্যুর ঝুঁকি ২০ শতাংশ কম। আরেকটি গবেষণায় উঠে এসেছে, হৃদরোগ, ডায়বেটিস এবং ক্যান্সারের মত রোগের ঝুঁকিও কমায় হোল গ্রেইন খাবার।
ওজন বাড়বে না তো?
স্বাস্থ্য সচেতনদের অনেকেই ধারণা করে বসেন হোল গ্রেইন খাবার খেলে ওজন বাড়তে পারে, তবে বিজ্ঞান বলছে ভিন্ন কথা। দীর্ঘদিন ধরে চলা অনেকগুলো গবেষণায় দেখা গেছে, যারা হোল গ্রেইন খাবার নিয়মিত খান তাদের ওজন সহজে বাড়ে না।